রফিকের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের দাবী

0
65

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় বদলখালী ইউনিয়নের মাতারবাড়ি পাড়া এলাকায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়া মোঃ রফিক উদ্দিনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসি। গত ১৮ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয় স্বজন ময়না তদন্ত ছাড়াই রফিকের মরদেহ দাফন কার্যসম্পাদন করে। তাকে হত্যা করা হয়েছে গুজব নিয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে উত্তম মাধ্যম ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত রফিকের আত্মীয়স্বজন ও বিক্ষদ্ধ জনতা বদরখালী ইউপি চেয়ারম্যান ব্যবসায়িক কার্যালয় সিন্ডিকেট অফিস ভাঙচুর করে। ঘটনায় বদরখালী নৌ-পুলিশের আইসি ইসমাইলসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ব্যাপারে পৃথক দুটি মামলাও দায়ের করা হয় থানায়।
এলাকাবাসি ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, বদলখালী ইউনিয়নের মাতারবাড়িপাড়া এলাকায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ১৭ আগস্ট রাত ৩টার সময় বদরখালী ৩নং ব্লকের মৎস্য প্রকল্পের অফিস গৃহে মারা যান। রাত সাড়ে ৪টার দিকে ভাই ওয়াইজ উদ্দিন মাষ্টার সহ আত্মীয় স্বজন রফিকের মরদেহ উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া জমজম হাসপাতাল ও পরে চকরিয়া সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসি আরো জানায়, পরদিন ১৮ আগস্ট মোঃ রফিকের মৃত দেহ স্থানীয় কবর স্থানে দাফন করা হয়। এদিকে, মৎস্য ব্যবসায়ি রফিককে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ১৯ আগস্ট এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গুজব নিয়ে স্থানীয় লোকজন বদরখালী বাজার থেকে বড়মাট চিংড়ি ঘেরে যাওয়ার পথে রফিকের সাথে ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে আবদুল আজিজ ও আজ বাহার নামের মহিলাকে আটক করে গনপিটুনি দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা।
ঘটনার খবর পেয়ে বদরখালী নৌ-পুলিশ একটি দল তাদের উদ্ধার করে। পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকেও তাদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এতে পুলিশ ও গ্রামবাসির মধ্যে সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটে। এতে বদরখালী নৌ-পুলিশের দু’কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় চকরিয়া থানার এসআই মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে ৪’শ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ এ সল্ট (চকরিয়া থানার মামলা নং-২৮. জিআর-৩২০) মামলা দায়ের করে। এছাড়ও রফিককে দাফনের পর ৩দিন পর তার ভাই এম.ওয়াজ উদ্দিন মাষ্টার বাদী হয়ে (চকরিয়া থানার মামলা নং-২৯, জিআর-৩২১) দায়ের করে। এ মামলায় আবদুল আজিজকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে আটক আবদুল আজিজ কারাগারে রয়েছে। এলাকাবাসি জানিয়েছেন, মৎস্য ব্যবসায়ি মোঃ রফিকের মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করা হলে হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন হবে।