বাড়ি আমাদের চট্টগ্রাম হাটহাজারীতে মৃৎ শিল্প বিলুপ্তির পথে

হাটহাজারীতে মৃৎ শিল্প বিলুপ্তির পথে

0
142

বিপ্লব দে ,হাটহাজারী,নিউজচিটাগাং২৪.কম ।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মৃৎ শিল্প। দেশের প্লাাস্টিক জাতীয় সামগ্রীর চাহিদা বেড়ে mirtselpoযাওয়ার কারনে প্রভাব পড়েছে মৃৎ শিল্পের উপর। এক সময় হাটহাজারীর বেশ কয়েকটি গ্রাম এ শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। কালের আবর্তে ডিজিটাল প্রদ্ধতির প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর ব্যাবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বড়ই কস্টেই দিন চলছে মৃৎ শিল্পের সাথে জড়িতদের ।
জানা যায় , এক সময় গৃহস্থ পরিবারে নিত্য ব্যাবহারের জন্য মাটির তৈরি জিনিস ব্যাবহার করত ।এখন  মৃৎশিল্পের উপকরনের দাম বৃদ্ধি  ও সে সাথে মাটির তৈরী জিনিস পত্রের চাহিদা কমে যাওয়ার কারনে এ শিল্পের কদর আগের চেয়ে অনেকাটা কমে গেছে। উপজেলার ফতেপুর,মির্জাপুর ,চারিয়া ,ধলই  ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবারের লোকজন এখন এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত অধিকাংশ পরিবারের লোকজন  বলেন এখন চাউল,ডাল,তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম বেশী  যার কারনে মৃৎ শিল্পর পণ্য বিক্রি করে তা পোশাইতে পারছি না। মাটির তৈরী বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতে গেলে তা  আগের মত বিক্রি হয় না। তা ছাড়া কাজের জোগানের জন্য লোকের  প্রয়োজন হলে  কম দামে হেলফার হিসেবে পাওয়া যেত  কিন্তু এখন তা পাওয়া যায়না। এখন একটা হেলফারের বেতন চারশ থেকে পাঁচশত টাকা দিতে হয়।উপজেলার ফতেপুর রুদ্রপল্লী ,ধলই ও মির্জাপুর ইউনিয়নে এ শিল্পের সাথে জড়িতদের  সাথে কথা বললে  তারা অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপটের বর্ণনা দেন। দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে হাতে গোনা ৮/১০ টি পরিবার  এখন বর্তমানে এ শিল্পে উপর নির্ভর করে  জীবিকা নির্বাহ করছে। এক সময় ফতেপুর রদ্রপল্লীর দেড় শতাধিক পরিবার মৃৎ শিল্প তৈরি  করে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতো। এখন সে সব পরিবারের লোকজন দেশ বিদেশে অবস্থান করে  স্বা^বলম্বী হয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য করে তাদের সংসার চালায়। শ্যামল রদ্র বলেন,এক সময় মাটির জিনিস সবাই পছন্দ করত কিন্ত সেই দিন আর নেই। তখন  হাটহাজারীর মাটির তৈরিকৃত পণ্য সামগ্যী  ফটিকছড়ি,রাউজান,রাঙ্গুনয়িাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত হত কিন্তু সেই দিন আর নেই। ডিজিটাল প্রদ্ধতিতে বড় বড় ফেক্টরীতে প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করে তা দেশের প্রত্যন্ত   অঞ্চল থেকে শুর করে মফস্বল এলাকা গুলোতে সরবরাহ করার কারনে আজ এ শিল্পের চাহিদা কমে যাচ্ছে।তারা বলেন এই শিল্পকে বাচাতে হলে সুদ মুক্ত  ঋণ  দিয়ে  মৃৎশিল্পের  উপর নির্ভরশীল পরিবার গুলোকে রক্ষা করতে হবে। না হলে  এ শিল্প একদিন হারিয়ে যাবে।