শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে আসছে মিয়ানমারের গরু, মহিষ, ছাগল

0
19

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে গবাদি পশু। বেশি আসছে শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে। সেই সাথে চোরাইপথেও আসছে। কোরবানির বাজার ধরতে বেশি মুনাফার আশায় টেকনাফের ব্যবসায়ীরা গরু মোটা তাজাকরণে চরম ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে এবারের কোরবানিতে গবাদি পশুর সংকট হবে না বলে মন্তব্য করেছেন টেকনাফের শীর্ষ গবাদি পশু ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে বর্তমানে শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোর এবং টেকনাফ সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ ব্যবসায়ীদের কাছে প্রচুর সংখ্যক গবাদি পশু বিক্রির অপেক্ষায় মজুদ রয়েছে। কোরবানির আগে আরও অন্ততঃ ২৫ হাজার গবাদি পশু মিয়ানমার থেকে আমদানি হওয়ার বা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও আশানুরুপ বিক্রি হচ্ছে না। অথচ গত বছর এসময়ে প্রচুর পরিমাণে গবাদি পশু বিক্রি হয়েছে। ভারত থেকে গবাদি পশু আমদানি করা হলে টেকনাফের ব্যবসায়ীগণ ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।
টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে ৪২৫টি গরু, ৭১০টি মহিষ এবং ৭টি ছাগল আমদানি হয়েছে। আগস্ট মাসে এসেছে ১ হাজার ৯৩৮টি গরু, ১০০০টি মহিষ ও ৩৮টি ছাগল। তবে ব্যবসায়ীদের সূত্র মতে, গত ২ মাসে করিডোরের মাধ্যমে বৈধভাবে এবং চোরাইপথে অবৈধভাবে ১০ হাজারেরও বেশি গবাদিপশু এসেছে। টেকনাফের শীর্ষ গবাদিপশু ব্যবসায়ী টেকনাফ সদর ইউপির মেম্বার আলহাজ আবু ছৈয়দ বলেন, বর্তমানে শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোরে কয়েক শত এবং টেকনাফ, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ ব্যবসায়ীদের কাছে প্রচুর সংখ্যক গবাদি পশু বিক্রির অপেক্ষায় মজুদ রয়েছে। কিন্তু ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখনও ব্যবসায়ীগণ (পার্টি) টেকনাফে আসেননি। অথচ গত বছর এসময়ে প্রচুর পরিমাণে গবাদি পশু বিক্রি হয়েছে। এবছর কোরবানির পশু সংকট হবে বলে মনে হয় না। কোরবানির পশু আমদানি, বিক্রি, পরিবহন ইত্যাদিতে কোন সমস্যা নেই বলে তিনি দাবি করেন। টেকনাফ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. দিদার হোসেন কোরবানির পশু সংকট নেই বলে দাবি করে বলেন, শুধু শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোরেই ৫০০ এবং টেকনাফ, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ ব্যবসায়ীদের কাছে অন্ততঃ ১০ হাজারেরও বেশি গবাদি পশু বিক্রির অপেক্ষায় মজুদ রয়েছে।
টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে আসছে গবাদি পশু। বাজার ধরতে বেশি মুনাফার আশায় টেকনাফের ব্যবসায়ীরা গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মিয়ানমারের গরু ও মহিষ ঝাঁকে ঝাঁকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। প্রতিদিন পশু বোঝাই ট্রলার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে দেশে ঢুকছে। গরু আসার এই ধারা অব্যহত থাকলে এ বছর কোরবানিতে দেশের পশুর সংকট হবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। কোরবানির পশুর দামও সস্তা হবে বলে জানান তারা।

টেকনাফ শাহাপরীরদ্বীপ করিডোরের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন কোরবানির আগে আরো অন্তত ৫০ হাজার পশু মিয়ানমার থেকে আনা সম্ভব হবে।

টেকনাফের শুল্ক বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি আগস্ট মাসের ১ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত ১হাজার ৪৪৮ গরু এবং ৩০৭ মহিষ এসেছে। জুলাই মাসে ৬ হাজার ৭৭০ গবাদিপশুর মধ্যে ৪ হাজার ৭৪০ গরু, ২ হাজার ২৯ মহিষ এবং মাত্র ১টি ছাগল আমদানি হয়েছে। যার বিপরীতে ৩৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭০০ টাকা রাজস্ব আমদানি হয়েছে।

টেকনাফের পশু ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মনির জানান, ভারত থেকে এবার গরু মহিষের আমদানি অনেকে বেড়েছে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা টেকনাফে না আসায় বেশ ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন ট্রলারে করে মিয়ানমার থেকে শাহপরীর দ্বীপ করিডরে পশু আসায় সংকট নেই বললেই চলে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু আমদানি করা হচ্ছে অনেক বেশি। কিন্তু টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় যাতায়াত বাবদ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরে কাস্টমস শুল্ক কর্মকর্তা একেএম মোশারফ হোসেন বলেন, গত জুন পর্যন্ত এক বছরে গবাদিপশু থেকে ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়েছে। টেকনাফে করিডর প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে এটি সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়। কোরবানিকে সামনে রেখে পশু আমদানির এই ধারা এখন আরো বেড়ে গেছে।
টেকনাফের গরু ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ জানান, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পশু শুধু কক্সবাজার নয়, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
করিডরের পশু ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ মেম্বার জানান, প্রতিদিন টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম, ফেনী, হাটহাজারি, চাঁদপুর ও কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ীরা প্রচুর গরু মহিষ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শাহপরীর দ্বীপ-টেকনাফ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সরাসরি ট্রাকে করিডর থেকে পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না ফলে খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা শাহপরীরদ্বীপ করিডরে পশু কিনতে আসবে। এখান থেকে পশু সরবরাহের ক্ষেত্রে পথে যেন কোনো রকম চাঁদাবাজি না হয় তাও নজরে রাখা হচ্ছে। এছাড়া গরু ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গরু মহিষ আসছে। পশুবাহী ট্রলার যেন নিরাপদে করিডরে আসতে পারে সে জন্য বিজিবি সহায়তা দিয়ে থাকে অন্যদিকে নাফনদীতে টহল আরো জোরদার করা হয়েছে। এই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে করিডোরে ব্যবসায়ীরা প্রচুর গবাদি পশু আমদানি করেছেন। এ আমদানি প্রতিবছর সরকারি রাজস্বে বড় ভূমিকা রাখছে।