দাদার দশতম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে

0
1988

> আজ আমার দাদার দশ তম মৃত্যু বার্ষিকী ২০০৮ সালে আজকের এইদিনে আমার কাছে থেকে তিনি চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়ে ছিলেন।দাদা আপনাকে ভীষন ভাবে মনে পড়ে এখন, আপনি কি আমার হৃদস্পন্দন শুনতে পাও।আমি আপনার অধম সেই বড় নাতি । আমাকে নিয়ে আপনার ছিল রাত বিরাতে ভীষন চিন্তা। অন্য নাতিরা মানুষ হল বা না হল তার দিকে চোখ দিতে না, যে নাতিটি মানূষ না হতে পারার জন্য কষ্ট পেতে, দূঃখ পেতে। সেই আমি এখন পুরোপুরি একজন মানুষ। কিন্তু আপনি নেই , কে দেখবে এখন আপনার মানুষটাকে ?
>
>
> আপনার জীবদ্দশায় বুঝতে পারিনি আপনাকে হারানোর বেদনা।না পাওয়ার বেদনা, অবসর সময়,আনন্দ দুঃখ, এই অধম নাতিটা বুঝতে পারেনি। আপনি কি ভাবতে মনে মনে । সেটা আমার কাছে এক বিরাট প্রশ্ন। কোন সুযোগই দিলেনা ।আপনি জানেন দাদা, আমি এখন ম্যাশল ম্যানদের মতো আচরন করিনা। চিৎকার হৈ চৈ করিনা। রাস্থার একপাশে হাটি। যে পাশে বের হই সে পাশেই ঘরে ফিরি। তোমার প্রিয় মানুষদের দেখলে সালাম দেই ও কথা বলি।আমার স্মৃতির ভেতরে, হাতড়ে হাতড়ে আপনাকে খুজিঁ। আপনার আদর্শ কে যেন অনুসরন করতে পারি। আপনি সব সময়ই খুব সাধারণ জীবন যাপন করেছ, সৎ জীবন যাপন করতে আমাদের কে শিখিয়েছ। আপনার আদর, ভালবাসা, শাসন সব কিছু কে বড় বেশি মিস করি দাদা। আমি দোয়া করি, আপনি যেখানেই থাকেন, যেন ভাল তাকুন, শান্তিতে থাকো। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করি, আর আপনার দেখানো পথ যেন অনুসরন করতে পারি, সেই চেষ্টা করি সব সময়। ভালো থেকো দাদা।
>
> আজ দাদার সাথে পথ চলার সময় গুলোকে অনুভব করেতেছি, চলার জীবনে দাদার ছায়াতেই বড় হয়েছি, দাদার ভালোবাসা, দাদার স্নেহ, দাদার আদর আজও আমার স্মৃতিতে সতেজ হয়ে ভাসে। আমার দাদা ছিলেন আমার আর্দশ। আজ দাদাকে আমার খুব প্রয়োজন ছিলো দাদার সাথে আমার অনেক কথা বলার ছিল আমি বলতে পারিনি তাই মনের লুকানো কথাগুলো আজও কারো সাথে ভাগাবাগি করতে পারিনি। দাদার আর্দশ, দাদার সততা, দাদার নৈতিকতা আমার কাছে অতুলনীয়।
>
> দাদা ছাড়া জীবনের প্রতিটা ধিক কিভাবে এগিয়ে যাবো ভেবে পাচ্ছি না। জীবনের প্রতিটা সময়ে অনেক বুদ্ধিকৌশল প্রয়োজন, তা আমার হারিয়ে গেছেন, যেহেতু আমি বুদ্ধি ও আনন্দহীনতায় আছি। একসময় দাদাকে না দেখে ঘুম আসতো না, একা একা খাওয়াতে বসাই হতো না, দাদার বুদ্ধিছাড়া কোন কাজেই সফল হওয়া যেতো না, আর আজ দাদাকে ছাড়া থাকতে হচ্ছে প্রতিটা মুহূর্তে খেতেই হচ্ছে একা একা, বুদ্ধিহীন অবস্থায় চলতে হচ্ছে এই অচেনা জীবন শহরতলীতে। কেন শুধু আমার জীবনেই এই অঘটন হল, কেন দাদাকে হারালাম এই বাল্যজীবনে। ভেবেছিলাম মানুষের মৃত্যু এরকম শান্তভাবে হয় না, কিন্তু নিজের হাতে ঝরিয়ে ধরলাম দাদাকে সকাল ৭-১৫মিনিটে। তারপর ও শুনতে হলো বিদায়ী কিছু কথা, বুকের ভিতর শুনতে পেলাম গরগরে উলুধ্বনি যে কিনা মৃতকল্পের শেষ চিঠি।নিজের চোখের সামনে এই মৃত্যু আমার দাদার এর চেয়ে আর কষ্টভোগ বলতে কিছু নেই। কখনও এত সকালে ঘুম ভাঙেনি আমার, সেদিন কেন উঠলাম আমি, হয়তো শেষ বিদায় শুনবার জন্য। কিন্তু সময় পেলাম মাত্র ২মিনিট এর মতো কথা বলার। তারপরেই আপনি আমাদের থেকে না পেরার দেশে চলে গেলেন। দাদা আপনি চলে গেলেও আপনি সবসময় তাকবেন আমার এই হৃদয়ে সারাজীবন যতদিন বেছে থাকবো আমি। আপনার কথা জিবনের পথ চলতে মেনে চলব।
>
> বড় নাতি আবু নছর আব্দুল হাই ছিদ্দেকী (রাহিন)
> বছলা করিমগঞ্জ, ভারত