সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হালখাতা

0
141

বাংলা নববর্ষ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হালখাতা। ক্রেতা-বিক্রেতার রসায়ন আরও মধুর করতে উৎসবে অন্যরকম রূপ, মাধুর্য এনে দেয় হালখাতা। হালখাতা বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করারই একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে ব্যবসায়ীরা তাদের দেনা-পাওনার হিসাব সমন্বয় করে এদিন হিসাবের নতুন খাতা খোলেন। এ জন্য খদ্দেরদের পাওনা শোধ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। এ উপলক্ষে নববর্ষের দিন ব্যবসায়ীরা তাদের খদ্দেরদের মিষ্টিমুখ করান। খদ্দেররাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পুরনো দেনা শোধ করে দেন।
আগেকার দিনে ব্যবসায়ীরা একটি মাত্র মোটা খাতায় তাদের যাবতীয় হিসাব লিখে রাখতেন। এই খাতাটি বৈশাখের প্রথম দিনে হালনাগাদ করা হতো। হিসাবের খাতা হালনাগাদ করা থেকে হালখাতার উদ্ভব। নতুন বছরের নতুন খাতা ‘লালখাতা’ বলেও পরিচিত।
বৈশাখের সকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী দোকানি ও ব্যবসায়ীরা সিদ্ধিদাতা গণেশ ও বিত্তের দেবী লক্ষ্মীর পূজা করে থাকেন এই কামনায় যে, সারা বছর তাদের ব্যবসা যেন ভালো যায়। এদিন ক্রেতাদের আনন্দদানের জন্য মিষ্টান্ন, ঠান্ডা পানীয় প্রভৃতির ব্যবস’া করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। হালখাতা আসলে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে খদ্দেরের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স’াপন। এদিন ব্যবসায়ীরা নতুনভাবে সাজিয়ে তোলেন তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের হালখাতা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান ।
চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রস’ল খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই। নববর্ষকে কেন্দ্র করে এখানেও হালখাতার মাধ্যমে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। আগের মতো জমজমাট না হলেও এখানকার ব্যবসায়ীরা হালখাতার মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে সুসম্পর্ক ধরে রাখছেন এখানে ।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী জুয়েল মহাজন জানান, প্রতিবছর আমরা হালখাতা করে থাকি। এদিনে ক্রেতাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে মিষ্টিমুখ করাই। দেনা-পাওনার বিষয়টি থাকলেও মূলত আন্তরিকতা বৃদ্ধির জন্য হালখাতার অনুষ্ঠান করা।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে হালখাতার আমেজ এখন আর তেমন নেই। হিসাব রাখার জন্য ব্যবহৃত লাল মোড়কের বিশেষ খাতার পরিবর্তে এখন কম্পিউটারেই হিসাব সংরক্ষণ করেন। ফলে হালখাতার দিনে পুরনো খাতা বাদ দিয়ে নতুন খাতার যে আবেদন, তা অনেকাংশে কমে গেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে আগে যে হৃদ্যতা ছিল, এখনকার সময়ে তা অনেকটাই ম্রান হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে হালখাতার আমেজও আগের মতো নেই।