অ্যান্টিক, ইমিটেশন ও সিটি গোল্ড এর দিকেই নজর

0
828

নিউজচিটাগাং :: বড় বড় শপিংমলগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে ভিড় বাড়ছে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত নগরবাসী। যারা নতুন পোশাক কিনেছেন তারা এখন ছুটছেন গহনার বাজারে। তবে স্বর্ণের গহনার জন্য নয়। অ্যান্টিক, ইমিটেশন ও সিটি গোল্ড এর গহনার দিকেই নজর সবার। অন্যান্য মার্কেটের মতো নিউ মার্কেট, আমিন সেন্টার, শপিং, স্যানমার এর জুয়েলারি ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। শাড়ি, থ্রিপিসের সঙ্গে ম্যাচিং করে গহনা কেনায় ব্যস্ত নারীরা।
কিছু বড় বড় জুয়েলারিতে টুকটাক ক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ছে। অপরাজিতা জুয়েলার্স এর বিক্রেতা কমল বলেন, ঈদের কেনাকাটায় স্বর্ণের বাজারে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। কাস্টমাররা দামাদামি করে চলে যাচ্ছে।

এবছর ঈদে আমাদের তেমন বেচাকেনা নেই বললেই চলে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে টুকটাক বেচাকেনা হচ্ছে। ডায়মন্ডের নোসপিন, আংটি, লকেট, ব্রেসলেট, চেইন, কানের দুলসহ ছোট ছোট প্রডাক্ট বিক্রি হচ্ছে। আমাদের বেচাকেনার মৌসুম হচ্ছে ব্রাইডাল সিজন অর্থাৎ শীতের সময়। কারণ এসময় খুব বেশি বিয়ে-শাদি হয়। ফলে তখন হ্যাবিচুয়াল গহনাগুলো পুরো সেটসহ বিক্রি হয়। এখন আমাদের কিছুটা ডাল সিজন যাচ্ছে। গিনি সোনার পার্টনার বলেন, ঈদের এই সময়টাতে মানুষ অন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকে। ডায়মন্ড, পার্ল বা স্বর্ণের গহনার প্রতি তেমন একটা ঝোঁক নেই ক্রেতাদের। বেচাকেনা নেই যে, তা নয়। তবে রেগুলার সময় থেকে খুবই কম। ক্রেতারা এখন ৮ থেকে ১০ আনার মধ্যে যে সিম্পল কিছু আইটেম আছে সেগুলো কিনছে। এর মধ্যে রয়েছে, স্বর্ণের উপর পার্লের আংটি, নাকফুল, পার্লের ছোট কানের দুল, ব্রেসলেট, মালা, পার্লের লকেট ইত্যাদি।

করিম জুয়েলার্সের সেলস এক্সিকিউটর বিমল বলেন, এবার আমাদের বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। টুকিটাকি অলংকার বিক্রি হচ্ছে। গত বছর ঈদের তুলনায় এবছর খুবই কম। ছোট চেইন, হাতের দুই একটা চুড়ি, গলার লকেট, নোসপিন ইত্যাদি। পাশাপাশি কেউ কেউ রুপার পায়েল ও নূপুর কিনছেন। বিমল জানায়, বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম হচ্ছে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা। আর ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম হচ্ছে ৪৮ হাজার ৬শ’ টাকা। তবে ঈদের আগে হয়তো কিছু ব্রাইডাল অলংকার বিক্রি হতে পারে। অন্তারা জুয়েলার্সের এক কর্মচারী বলেন, এখন দোকানে তেমন কোনো বেচা-বিক্রি নেই। তবে ঈদের পরের সপ্তাহে সাধারণ বিয়ে-শাদি হওয়াকে কেন্দ্র করে তখন বড় অর্নামেন্টগুলো বিক্রি হতে পারে। এক কথায় সোনার বাজারে ঈদের কেনাকাটার কোনো প্রভাব পড়েনি। ঈদের পরপর আবার বেচা-বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে বলে আশা করছি।

অন্যদিকে অ্যান্টিক, ইমিটেশন ও সিটি গোল্ড এর বাজারে গহনার দোকানে বেড়েছে নারী ক্রেতাদের ভিড়। গত কয়েক বছর ধরেই সোনা-রূপার পাশাপাশি সিরামিক, পাথরের গহনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, অ্যান্টিক, ইমিটেশন ও সিটি গোল্ড গহনার দোকানগুলোতে বেশ ভিড়। কেউ নিজের জন্য, আবার কেউ উপহার দেয়ার জন্য গহনা কিনছেন। নতুন ডিজাইনের পুঁতি, কড়ি, শেল, সুতা, কাঠ ও পিতলের তৈরি গহনার প্রতিই তরুণীরা বেশি আগ্রহী। তবে এবার পিতল আর স্টোনের গহনা বেশি চলছে। ব্যবসায়ীরা জানায়, ১০ রমজানের পর থেকেই গহনার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। কারণ এ সময় অনেকেরই শাড়ি ও থ্রিপিস কেনা হয়ে যায়। এর পরেই পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে গহনা কিনতে ভিড় জমান নারীরা। গহনার দাম নির্ধারিত থাকে বলে ক্রেতাদের সঙ্গে খুব একটা ঝামেলা হয় না। শপিংমলগুলোতে গহনার দাম নির্ধারিত থাকলেও ফুটপাথের ছোট দোকানগুলোতে তা থাকে না এবং এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও বেশি। গহনা কিনতে আসা সালমা জাহান বলেন, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পিতলের তৈরি ছোট ছোট পাথর বসানো চুড়ি, কানের দুল, হাতের রিং, গলার সেটসহ বেশকিছু গহনা কিনেছি। এবার ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন ডিজাইনের গহনা এসেছে। দোকানিরা দাম অনেক বেশি চাইলেও দরকষাকষি করলে কিছুটা কমে কেনা যায়। বছরের অন্যান্য সময়ে গহনা কেনা হয় না। তাছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সব সময় স্বর্ণের গহনা কেনাও সম্ভব হয় না। তাই বছরের এ সময়ে বোনাসের বাড়তি অর্থ দিয়ে নিজের জন্য একটি ডায়মন্ডের নাক ফুল কিনেছি। আর বাকিগুলো অ্যান্টিকের মধ্যে নিয়েছি।

বর্তমানে রূপার সঙ্গে অ্যান্টিক, কপারের রং মিশিয়ে এর সঙ্গে পান্না, এডি পাথর, পুঁতি, ক্রিস্টাল পাথর বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে নানা রকম গহনা। সোনার দাম বেশি হওয়ায় এবং রূপার ডিজাইনের বৈচিত্র্য থাকায় অনেকে রূপার গহনার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। সব মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের গোল্ডপ্লেটেড গহনার সমারোহ। তবে এসব গহনার প্রতি তরুণীদের চেয়ে বিবাহিত নারীদের আগ্রহ বেশি।