ভারত থেকে ৪১৬৯ কোটি টাকার বিদ্যুৎ

0
51

হাসনাইন ইমতিয়াজ,অর্থনীতি প্রতিদিন>
ভারতের খোলাবাজার থেকে বিদ্যুৎ কিনতে তিন বছরে বাংলাদেশের ব্যয় হবে চার হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ...১বিদ্যুতের দাম পড়বে প্রায় ছয় টাকা ৩৫ পয়সা। ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ আনতে ইউনিটপ্রতি মাশুল গুনতে হবে বাড়তি আরো ৩৬ পয়সা।
ভারতের খোলাবাজার থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার এমন একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবটি এখন বিদ্যুৎ বিভাগের মাধ্যমে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, সঞ্চালন ব্যয়সহ বিদ্যুতের দাম পড়বে প্রায় সাত টাকা, যা দেশের ফার্নেস অয়েলে উৎপাদিত বিদ্যুতের দামের সমান। আর ভারত এসব বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে কয়লা অথবা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। সে অনুযায়ী বিদ্যুতের মূল্য অনেক বেশি পড়ছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেখানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম হলো সর্বোচ্চ ৫ টাকা (৩.৫১ রুপি), সেখানে বাংলাদেশে তা সরবরাহ করা হবে প্রায় ৭ টাকা মূল্যে।
বিডি রহমতুল্লাহ বলেন, এত ব্যয়ে বিদ্যুৎ আমদানি না করে পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কার আর বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে আরো সাশ্রয়ী দামে দেশেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব ছিল।
দরপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কিনতে ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল দর প্রস্তাব আহ্বান করে পিডিবি। কিন্তু সাড়া না পাওয়ায় পরবর্তী পর্যায়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নীতিমালা (পিপিআর)-২০০৮ এর ৬৩ ধারা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে (এলটিডি) দরপত্র ডাকা হয়। যার শেষ সময় ছিল চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল। পরে তা বাড়িয়ে ১৩ মে করা হয়।
পাওয়ার ট্রেডিং কোম্পানি (পিটিসি) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেনা হবে। কোম্পানিটি ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে বাংলাদেশে সরবরাহ করবে।
পিডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রথম দরপত্রে বিদ্যুৎ কেনার জন্য নির্বাচিত দরদাতার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি করার বিধান ছিল। কিন্তু ভারতীয় কোনো কোম্পানি এত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে রাজি না হওয়ায় পরে তিন বছরের জন্য চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি অনুসারে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার কথা বাংলাদেশের। এর মধ্যে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খোলাবাজার থেকে কেনা হবে। ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নয়া দিল্লিতে এ সংক্রান্ত একটি অনুচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাকি ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রাষ্ট্রীয় খাত থেকে সরবরাহ করবে ভারত।
এদিকে এই বিদ্যুৎ চলতি বছরে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও তা সম্ভব নয়। চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে ভারতের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসতে পারে।
এ বিলম্বের কারণ হলো, বিদ্যুৎ বিনিময়ের জন্য জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ সময়মতো শেষ হচ্ছে না। বাংলাদেশ অংশের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও ভারতীয় অংশে এখনো প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার লাইন স্থাপন বাকি রয়েছে।
সাবস্টেশনসহ এ সঞ্চালন লাইন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে এ ব্যয় এখন কয়েক শ কোটি টাকা বেড়ে গেছে।