হাসপাতাল খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আরিফুল

0
114

হাসপাতাল খুঁজছেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। করোনা মোকাবেলার জন্য তিনি এই হাসপাতাল ব্যবহার করবেন। থাকবে আইসিইউ সুবিধা। অক্সিজেনেরও থাকবে সুব্যবস্থা। বুধবার বিকেল থেকে তিনি হাসপাতাল খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে খোজা হচ্ছে আবাসিক হোটেলও। করোনা আক্রান্ত রোগীদের যেসব চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা চিকিৎসা দেবেন তাদের রাখা হবে ওই হাসপাতালে।
বুধবার সন্ধ্যায় মানবজমিনের কাছে হাসপাতাল খোঁজার বিষয়টিও জানিয়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি জানান- এ নিয়ে তিনি সিলেটের সন্তান ও বিএমএ’র কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ডা. এহতেশামুল হক দুলালের সঙ্গেও কথা বলেছেন। বিএমএ সেক্রেটারীও তার এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন বলে জানান মেয়র।
সিলেটে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন রোগী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি হলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। রোববার করোনা শনাক্ত হওয়ার পর তিনি নিজ সম্মতিতে বাসাতেই ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলে সিলেটের কোরোনা আইসোলেশন কেন্দ্র শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আইসিইউ ও অক্সিজেন সাপোর্ট পান।
বুধবার বিকেলে বিকেলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে ঢাকার কুয়েতমৈত্রী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় । এরপর থেকে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চিকিৎসকদের কেউ কেউ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা ওই হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসার সাপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। খবরটি যায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কানেও। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও। ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করেন।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন- ‘করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি ভালো মানের হাসপাতাল দরকার। সরকারী যে হাসপাতাল আছে সেখানে পর্যাপ্ত সাপোর্ট নেই। কোনো বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পেলে ভালো হতো বলে জানান তিনি।’ ওসমানী হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে করোনা রোগী রাখার পক্ষে তার মত নেই বলে জানান। বলেন- ‘ওসমানী হাসপাতালে করোনা রোগী নিয়ে গেলে ভর্তি থাকা রোগীদের সমস্যা হবে কিংবা সংক্রমণ বাড়তে পারে। এ কারনে সব সাপোর্ট সম্পন্ন একটি হাসপাতাল প্রয়োজন। সেটিই আমরা খুজছি এবং এ নিয়ে আলোচনা করছি।’
এদিকে- আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করার পর থেকেই শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে দুটি আইসিইউ বেড বসানো হয়। ওসমানী হাসপাতাল থেকে ভেন্টিলেটর সহ এনে এই দুটি আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সিলেটে আরো ৫ টি বেড এসেছে। সেগুলোও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর বাইরে সিলেটের বেসরকারী হাসপাতালের আইসিইউ বেডগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন- শামসুদ্দিন হাসপাতালের জন্য আরো ৪টি আইসিইউ বেড আসছে। সব মিলিয়ে ওই হাসপাতালে ১১ টি আইসিইউ বেড হবে।
প্রেস ব্রিফিং : এদিকে- রাত ৯ টায় সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে জরুরী প্রেস ব্রিফিং করেছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনূসুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন- করোনা আক্রান্ত চিকিৎসককে সিলেটে চিকিৎসা প্রদানের কোনো ত্রুটি ছিলো না। সব সাপোর্ট সিলেটেই রয়েছে। পারিবারিক সিদ্ধান্তে পরিবারের লোকজন তাকে বিকেলে ঢাকার কুর্মিটোলার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। তাদের মনের সন্তুষ্টির জন্য তারা রোগীকে সেখানে নিয়ে যান। সিলেটে তার চিকিৎসা ব্যবস্থার কোনো গাফিলতি ছিলো না। হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান- করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য সিলেটে পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে। সুতরাং সিলেটের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। বরং দেশের অনেক স্থান থেকে সিলেটে পর্যাপ্ত সুবিধা ও টিট্রমেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।