ফাঁকা টরেন্টো টাউন ঘুমাচ্ছে

0
42

টরেন্টো ট্টানজিট কমিশন (টিটিসি)- এর অর্ধ শতাধিক বাস ড্রাইভার করোনায় আক্রান্ত। এজন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলছে না বাস। সাবওয়ে চলছে ধীরলয়ে। সময় মতো চলাচল করছে না। ২৩ এপ্রিলের আগে জরুরি অবস্থা উঠছে না। তাই ব্যক্তিগত গাড়িও কম। অন্যদিকে টরেন্টোর সবচেয়ে ঝাঁকঝমপূর্ণ ডাউন টাউন ফাঁকা। রেস্টুরেন্ট, বার, নাইট ক্লাব ও তারকা মানের হোটেলগুলো বন্ধ। তাই অনেকটা ঘুমাচ্ছে ডাউন টাউন।
টরেন্টোর পরিচিত মুখ সমাজকর্মী এজাজ খান কাজের জন্য প্রতিদিনই ডাউন টাউন যান। গত এক মাস ধরে করোনার কারনে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তিনি মানবজমিনকে বলেন, দুই দিন আগে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে ডাউন টাউন গিয়েছিলাম। গিয়ে ভুতুরে ডাউন টাউন দেখেছি। আমার ৩০ বছরের কানাডার প্রবাস জীবনে এমন পরিস্থিতি দেখিনি। দেখে সত্যিই খারাপ লেগেছে।
এদিকে কানাডায় ফেডারেল ও প্রভিনশিয়াল সরকারগুলো করোনা পরিস্থিতিকে ঠিকভাবে সামাল দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্টুডো প্রতিদিন জাতির উদ্দেশ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। ওন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড তার টীম নিয়ে প্রতিদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন তারা। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নে জর্জরিত করলেও রেগে যাচ্ছেন না। বরং সহাস্যে সব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন।
ইস্টার সানডে কানাডীয়ানদের বড় একটি উৎসব। আমাদের ঈদের মতোই ইষ্টারে তারা উপাসনালয়ে জমায়েত হয়ে প্রার্থনা করে, বাড়ীতে বাড়ীতে ভোজের আয়োজন করে। বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় সব্জনদের আমন্ত্রণ জানানো হয় সেই পার্টিতে। করোনা পরিস্থিতি এবং সামাজিক দূরত্বের নিয়ম চলতে এবার এসবের কিছুই হয়নি। ইস্টার সানডের আগে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্টুডো নিজে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবার ইস্টারটা যেনো অন্যভাবে উদযাপন করা হয়, প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।কেউ যেনো স্বজনদের বাড়ীতে বাড়ীতে ভীঢ় জমিয়ে পার্টি না করেন। প্রধানমন্ত্রী কথামতো ইন্টার সানডে ঝাকঝম ছাড়াই পালন হয়েছে।
এদিকে কানাডা সরকার তার দেশের নাগরিকদের জন্য ঘোষণা করছেন জরুরি বিভিন্ন প্রণোদনা। এরই মধ্যে জরুরি প্রণোদনা পেতে শুরু করেছেন কানাডায় বসবাসকারীরা। যাদের ঘরে খাবার নেই তারা ফুড ব্যাংকে ফোন করলেই বাসায় খাবার পৌছে দেয়া হচ্ছে। এত কিছুর পরও মানুষের মনে আনন্দ নেই।কানাডার বহুল প্রচারিত বাংলা সাপ্তাহিক ভোরের আলো পত্রিকার সম্পাদক আহাদ খন্দকার মনে করেন, মানুষের চলাচল স্বাভাবিক না হলে মনে আনন্দ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। আশা করছি এমন পরিস্থিতি বেশি দিন থাকবে না।