লিচুর বাম্পার ফলনে বাচ্চুর পরিবারে আনন্দ

0
101

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই। কাপ্তাই উপজেলাধীন শীলছড়ি এলাকায় পাহাড়ের ঢালে হার না মানা কৃষক এনামুল হক বাচ্চুর বাগানে এবার কালিপুরি ও চায়না লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামী একমাসের মধ্যে তা বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে লক্ষাধিক টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে আশা করছেন এই কৃষক। এর ফলে কৃষক বাচ্চু ও তার পরিবারে খুশির জোয়ার বইছে। কৃষক বাচ্চু জানায়, রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের নিকট থেকে পাওয়া সামাজিক বনায়নের পশুখাদ্য বাগানের পাশাপাশি ৪ একর জমির পাহাড়ের ঢালুতে সে চাষ করেছে কালিপুরি ও চায়না-টু ও থ্রী জাতের লিচু। পাশাপাশি আরো বিভিন্ন প্রজাপতির সবজি ও ফল বাগানের চাষ করেছেন। এই বাগানে প্রতিদিন স্ত্রী, ২মেয়ে ১ ছেলে এবং পাশাপাশি আরো দু’জন শ্রমিক নিয়ে কর্ণফুলী নদী হতে বহু কষ্ট করে পানি তুলে এনে গাছের পরিচর্যা ও বাগানে পানি দিয়ে থাকেন একটু ভালো ফলনের আশায়। বাগানে দেখা গেছে, হার না মানা এই কৃষক বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের পাশাপাশি কালিপুরি লিচু ও চায়না টু ও থ্রী জাগের লিচু গাছে ব্যাপক ফসল হয়েছে। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কৃষক বাচ্চু বলেন, তার সংসারে অনেক টানাপোড়ন ছিল। সংসার ও পরিবার-পরিজন চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। সংসারকে সচল করার জন্য তিনি ২০১২ সালে চট্টগ্রামের মোজাহের আয়ুর্বেদিক কলেজে শর্ট কোচ করেন। তাতেও তার সংসারে গতি আসেনি। পরে বন বিভাগের সহায়তায় সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলের চাষ করেন। বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি কালিপুরি লিচু ও চায়না টু-থ্রী চাষ করেন। তার বাগানে সার ও পরিচর্যা করতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার তার বাগানে মাশাল্লাহ ভালো লিচু ধরেছে। আগামি ১৫-২০ দিনের মধ্যে কালিপুরি লিচু ও একমাসের মধ্যে চায়না টু-থ্রী বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন বাচ্চু। কৃষক এনামুল হক বাচ্চু বলেন, তিনি সরকারের নিকট উন্নতমানের একটা এসপাই মেশিন সাহায্য পেলে বাগানে তার পানি দিতে আর কষ্ট হবেনা । এছাড়া, সরকারি কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেলে এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের নিয়মিত দিক- নির্দেশনা পাওয়া গেলে আরো ভাল কিছু করতে পারবেন বলে দৃঢ়তার সাথে জানান কৃষক বাচ্চু।