বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত

0
65

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস (বিআইটিআইডি)’তে b i t  i dআয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসজনিত রোগ ও এর সংক্রমণ এখন বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক রোগ হিসেবে চিহ্নিত। প্রতি ১২ জনে ১ জন হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকে জানেন না, তাদের শরীরে এই ভাইরাস আছে কি-না বা থাকলেও কি অবস্থায় আছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। আক্রান্তদেও বেশিরভাগই ভাইরাসের জটিলতায় লিভার ফেইলর, লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সারে মারা যায়।
গতকাল ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে হেপাটাইটিস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‌্যালি ও সেমিনার। সকাল ১১টায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে র‌্যালি এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ফৌজদারহাটস্থ প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইটিআইডি’র পরিচালক ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আবু তৈয়ব। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মামুনুর রশিদ।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাঈমা তাসনিমের সঞ্চালনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আইএইচটি’র অধ্যক্ষ কাজী আলী আকবর, ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অপরাজিতা পোদ্দার, নাসিং কলেজের অধ্যক্ষ সালমা খানম, প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক ডা. শফিউল আলম চৌধুরী।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডা. মাহমুদ হাসান আরিফ, ডা. গোলাম হাবিব, ডা. মোকাদ্দেসা বেগম, ডা. এনশাদ একরাম উল্লাহ, ডা. রুমানা রশিদ, ডা. নাঈমা আকতার, ডা. মোহাম্মদ ঈসা চৌধুরী, ডা. ফিরোজ খান প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, হেপাটাইটিসের অনেক কারণ রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম হলো ভাইরাসজনিত, মদ্যপানজনিত। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস। আর ভাইরাসের মধ্যে অন্যতম হলো হেপাটাইটিস ‘এ, বি, সি, ই’ ভাইরাস। এর মধ্যে ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাস পানিবাহিত আর ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস রক্তবাহিত। ‘এ’ ভাইরাস ও ‘ই’ ভাইরাস স্বল্প মেয়াদী অর্থাৎ ‘একিউট’ সংক্রমণ করে, যার কোন দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া নেই। আর ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস ‘একিউট’ ইনফেকশান করলেও এর মূল ক্ষতিকারক দিক হলো এরা যখন ক্রনিক পর্যায়ে যায় তখন লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
তিনি বলেন, শরীরের কোন লক্ষণ ছাড়াই যেমন হেপাটাইটিস হতে পারে আবার জন্ডিস বা চোখ, শরীর কিংবা প্রস্রাব হলুদ হয়ে যেতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আবু তৈয়ব বলেন, হেপাটাইটিসের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে, এটা হেপাটাইটিসের লক্ষণ কি-না? যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হেপাটাইটিস সনাক্ত করে এর কারণ জেনে চিকিৎসা শুরু করলে লিভারের বিকলতা বা মৃত্যুর হাত থেকে কিংবা আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের টিকা শিশু থেকে সব বয়সের মানুষের অবশ্যই নেওয়া উচিত।