খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় শামীম ইস্কান্দার

0
16

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়েছেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার।

বুধবার রাতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান। বিষয়টি একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। তাকে নিয়মিত অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে বিদেশ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে চায় পরিবার। বিদেশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কাদার ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে খালেদা জিয়া বা তার পরিবার সরকারের কাছে কোনো আবেদন করেনি। খালেদা জিয়াকে পরবর্তী কোনো সুবিধা নিতে হলে আদালতের মাধ্যমেই আসতে হবে।

খালেদার বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের ওপর নির্ভর

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খালেদা জিয়া যে সাজা ভোগ করছিলেন, তা স্থগিত করে তাকে চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তার ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি যাতে উন্নত চিকিৎসা পান সে ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া যদি বিদেশ যেতে আবেদন করেন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি আদালতের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী যে ধারায় সাজা স্থগিত রেখে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, এর বাইরে অন্য কোনো সুযোগ নিতে চাইলে তাকে আদালতে যেতে হবে। আরও কিছু পেতে হলে কোর্টের মাধ্যমে আসতে হবে।

তবে এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিদেশে যেতে বা বিদেশি চিকিৎসা নিতে পারবেন না- সরকারের দেওয়া সেই শর্ত শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। এটা নির্ভর করছে একেবারেই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। কিন্তু এখনও বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের তরফ থেকে এরকম কোনো আবেদন পাইনি।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতির বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ সরকার খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে। সরকারই এই শর্ত শিথিল করতে পারবেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারই বলবে তারা আদালতে যাবেন না কী করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে আবেদন করলে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন করা হয়নি বলে জানা গেছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু এ নিয়ে সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মঙ্গলবার (৪ মে) এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বুধবার (৫ মে) বিকেলেও বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। খালেদা জিয়া আবেদন করলে সরকার বিবেচনা করে দেখবে। কিন্তু এখনও তো কোনো আবেদনই তারা করেনি।

গত বছর দেশে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সরকারের নির্বাহী আদেশে ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। এর পর আরও দুই বার ৬ মাস করে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। খালেদা জিয়ার এই মুক্তির শর্ত ছিলো, কোনো কারণে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতের রায়ে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়। গত ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাবন্দী ছিলেন।

সম্প্রতি খালেদা জিয়া করোনা ভাইরাসে আক্রন্ত হন। পরে তিনি করোনামুক্ত হলেও শারিরীক অসুস্থতার কারণে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরই মধ্যে তার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা উঠেছে। খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চায় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরও বলেন, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সরকার দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে শর্ত দিয়ে মুক্তি দিয়েছে। এর পর দুই দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তার মুক্তির বিষয়ে শর্ত দেওয়া হয়েছিলো, তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না, বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।

এখন বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সরকারের অনুমতি পাবেন কিনা জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সেটা সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। আবেদন করলে সরকার আগে যে শর্ত দিয়েছে তা স্থগিত করবে কি করবে না সেটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এখনও তো কোনো আবেদনই করা হয়নি, এ অবস্থায় আগে থেকে তো আমি কিছু বলতে পারি না।