জন্মস্থান ও মায়ের মায়া …

0
83

রহমান মিজান: বেশি নয়। আমার জীবনের শুধু একটি বছর কাটিয়েছিলাম সিলেটে। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের দূরত্ব ১ দিন বা ১ রাত। রাতে রওয়ানা দিয়ে রাত পোহালেই সিলেট অথবা সকালে রওয়ানা দিয়ে সন্ধ্যা নামতেই চট্টগ্রাম। নিজের জন্মভূমি এবং মাকে ছেড়ে এই ১টি বছরই আমার বাইরে থাকা। নিজের জন্মস্থান এবং মাকে ছেড়ে বাইরে থাকার অনুভূতিটা আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম এই একটি বছরে। নিজের জন্মস্থানেই যদি সব মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হতো তবে কোন মানুষই ঘর ছেড়ে, মাকে ছেড়ে, জন্মস্থান ছেড়ে কোথাও যেত না। কিন্তু তা হয় না, হবার নয় বলেই মানুষের এই দিগ্বিদিক ছুটে চলা। মানুষ ছুটে চলে ঠিক কিন্তু তা তার নিজের ইচ্ছায় নয়, ইচ্ছার বিপক্ষে। যেমনই হোক আপনার এলাকা, যেমনই হোক আপনার ঘর, যেমনই হোক আপনার মা-বাবা, ভাইবোন। দিনশেষে এ সবই সেরা আপনার কাছে। তাইতো ক্ষণে ক্ষণে ছুটে যেতে মন চায় নিজ ভূমে, মায়ের কোলে। ঈদ-পার্বণে ছুটিছাটা পেলে বা অন্য কোন সময়ে সুযোগ পেলেই মানুষ ছুটে চলে নাড়ীর টানে বাড়ির পানে। এতে দোষের কিছু নেই। দোষটা তখনই হয় যখন এ যাত্রায় বাঁচা-মরার প্রশ্নটা সামনে এসে দাঁড়ায়। আজ ১ বছরেরও বেশি হতে চললো দেশে করোনা এসেছে। এই করোনা ওলটপালট করে দিয়েছে পুরো পৃথিবীটাকে। লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই করোনা। এ কারণেই সবার প্রতি সর্তক বাণী, ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন। কিন্তু মনটাতো মানে না। মন বার বার ছুটে যেতে চায় এদেশের ছোট্ট একটি গাঁয়। যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মায়ের মায়া মাখানো পরশ। সেই পরশের স্বাদ নিতেই মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে মানুষের ছুটে চলা নিজ ভূমে। আমি আপনি নিজ জন্মস্থানে আছি বলে, মায়ের কাছে থাকি বলে হয়তো তাদের গালাগাল করছি যারা এ মহামারির দিনেও চড়াই-উৎরাই পার হয়ে ছুটছে বাড়ির পানে। কিন্তু তাদের জায়গায় আমি আপনি থাকলে কী করতাম তা এখন প্রশ্নবোধক চিহ্ন! পেটের ধান্ধা করতে করতে মানুষ স্বপ্ন দেখে মনের ধান্ধা করার। তাইতো স্বপ্ন যেতে চায় বাড়ি। যেখানে অপেক্ষারত আছে মা-বাবা, ভাইবোন এবং সবুজ প্রকৃতি। এ মহামারি লক্ষ লক্ষ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ঠিক, স্বপ্নের পানে ছুটে চলা মানুষগুলোকে আমরা গালাগাল করছি ঠিক। কিন্তু মনকে বুঝাই কী দিয়ে? মন যে বড্ড বেয়াড়া…………… ♪♪♪♪♪♥