সমুদ্র বন্দরে এক নম্বর সতর্ক সংকেত

0
23

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে, যা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তাই দেশের সব সমুদ্রবন্দরে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সময়ে গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এই অবস্থায় গভীর সমুদ্র থেকে সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে রোববারের (২৩ মে) মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

লঘুচাপটি নিম্নচাপের পর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে যশ (Yaas)। এটি একটি পার্সিয়ান শব্দ, যার ইংরেজি হচ্ছে জেসমিন। বাংলায় যাকে বলা হয় জুঁই ফুল। এই নামটি দিয়েছে ওমান।

আবহাওয়াবিদ মুহম্মদ আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকার লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৬ মে নাগাদ উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে। তাই সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে ২৩ মের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের আবহাওয়া অফিস ও সাইক্লোন সেন্টার জানিয়েছে, শনিবার (২২ মে) সকালে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৩ মে) সকালে এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সোমবার (২৪ মে) প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে ২৬ মে এটি বাংলাদেশের খুলনা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করবে।

ঘূর্ণিঝড়ে প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে শনিবার বৈঠক করেছে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আবহাওয়া অধিদফতের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে লঘুচাপটি ১ হাজার কিলোমিটার দূরে রয়েছে। ধীরে ধীরে সতর্কতা সংকেত বাড়ানো হবে।

এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তা অতিপ্রবল রূপ ধারণ করতে পারে। এক্ষেত্রে ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ উঠে যেতে পারে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি।

২০২০ সালের মে মাসে একই দিক থেকে হানা দিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। তবে সেটি পশ্চিমবঙ্গসহ দক্ষিণ ভারতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে গেলেও বাংলাদেশে ঢোকে শক্তি হারিয়ে।

সাগর পৃষ্ঠ গরম হলে বাতাস হালকা হয়ে উপরে ওঠে যায়। ফলে একটি বায়ুশূন্যতার সৃষ্টি হয় সাগরের উপরিতলে। এতে যে চাপ বা ঘূর্ণনের সৃষ্টি হয়, তাকে লঘুচাপ বলা হয়। সেটা আরও শক্তি সঞ্চয় করলে প্রথমে নিম্নচাপ, আরও শক্তি সঞ্চয় করলে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।

এদিকে সারাদেশের গরম কিছুটা কমলেও ঢাকার তাপমাত্রা বেড়েছে। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কুমিল্লা, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর ও পাবনা জেলাসহ ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ একেএম রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার নাগাদ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে।