পণ্যপরিবহনযানের টার্মিনাল নির্মাণ জরুরী

0
17

চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন সড়ক, আশপাশের বিস্তৃত এলাকা ও নগরীর বিভিন্ন সড়ক অসহনীয় যানজটের কবলমুক্ত করা এবং পণ্যপরিবহনযান ও শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বন্দর ‘বে-টার্মিনাল’ এর নিকটবর্তী স্থানে একটি পূর্নাঙ্গ ‘ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার-ট্রেইলার টার্মিনাল’ নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোারেশনের মাননীয় মেয়রের সাথে পন্য পরিবহন খাতের জাতীয় পর্যায়ের মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দগণের সাক্ষাৎ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহম্মদ ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ওয়াজি উল্লাহর নেতৃত্বে উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মাননীয় মেয়রের বহদ্দারহাট এলাকাস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। নেতৃবৃন্দ পণ্যপরিবহনযানের টার্মিনাল নির্মাণে জরুরী প্রয়োজনীয়তা মেয়র মহোদয়ের সামনে তুলে ধররেন। তিনি বিষয়টি গভীর মনোযোগসহকারে শুনেন এবং প্রশ্ন করে বিশদভাবে জেনে নেন। আলোচনার সমাপ্তিকালে সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে অবিলম্বে এই টার্মিনাল নির্মাণের ব্যাপারে মেয়র মহোদয় আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শীঘ্রই তিনি বিষয়টি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন। তিনি এ-ও জানান যে, সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রস্তাবসহ সিটি কর্পোরেশনকে যাতে একটি আবেদনপত্র দেওয়া হয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে উভয় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী প্রধানদ্বয় আজ ১২ জুলাই ২০২১ সোমবার সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে টার্মিনাল সংক্রান্ত একটি পূর্নাঙ্গ প্রস্তাব মেয়র মহোদয় সমীপে সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে পেশ করেন। লিখিতি প্রস্তাবে বাংলাদেশ কার্ভাডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহম্মদ বলেন, হাজার হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইমমুভার-ট্রেইলার চট্টগ্রাম বন্দর, বেসরকারি অফ-ডক/ডিপো ও শিল্পাঞ্চলগুলো থেকে আমদানিকৃত বা উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং এর বিপরীতে রপ্তানিযোগ্য ও বাজারজাতকারী শিল্প ও কৃষিপণ্য নিয়ে নানা স্থান থেকে বন্দর, অফ-ডক/ডিপো এবং নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প এলাকায় প্রতিদিন যাতায়াত করে। উল্লেখ্য, এখানকার অধিকাংশ অফ-ডক/ডিপো, শিল্পাঞ্চল এবং সমুদ্রবন্দর মহানগরীর ভৌগোলিক এলাকায় অবস্থিত। তাই সংগত কারণে, আগত গাড়িগুলো পণ্যসামগ্রী খালাসের পর ফিরতি ট্রিপ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে নগর এলাকার ভেতরে অপেক্ষমান থাকে। এই অপেক্ষাকাল কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত গড়ায়। ফলে এসব খালি (ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইমমুভার-ট্রেইলার) গাড়ি উপযুক্ত টার্মিনাল না থাকায় নগরীর যত্রতত্র তথা সড়কপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। নগরীর সড়কগুলোতে নিত্যদিনের ভয়াবহ যানজট ও অসহনীয় জনদুর্ভোগ সৃষ্টির এটি অন্যতম প্রধান কারণ। শুধু তা-ই নয়। গাড়িগুলো এখানে সেখানে অনিরাপদ ও অরক্ষিত অবস্থায় থাকার কারণে সহজে চোর-ডাকাতের কবলে পড়ে এবং পরিণতিতে ব্যাটারী, স্পেয়ার চাকা, ট্যাংক’এ সংরক্ষিত জ¦ালানি তেল ও যন্ত্রাংশ খোয়া যায়। অপরদিকে চালক-শ্রমিকরা হারায় টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন তথা সহায়সম্পদ; কখনো কখনো অমূল্য জীবন। ওপরি পাওনা, পুলিশের মামলা-হামলা ও হয়রানি। বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি জনাব ওয়াজি উল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন নগর এলাকায় ‘ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার-ট্রেইলার টার্মিনাল’ না থাকায় গাড়িচালক ও সহকারীরা এক অমানবিক পরিস্থিতিরও সম্মুখীন। প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্ম ও গোসলের মতো স্বাস্থ্যগত চাহিদা পূরণের কোনো ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে রাখা গাড়িগুলোর স্থানে থাকে না। ফলে প্রায়ই চালক বা সহকারীরা অসুস্থ্য ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি জনাব লতিফ আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইউসুফ মজুমদার মানিক, মোঃ আরিফুর রহমান রুবেল, প্রচার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ শামসুজ্জামান সুমন।