কাপ্তাইয়ের দূর্গম পাহাড়ি জনপদে প্রধানমন্ত্রীর উপহার “নতুন বাড়ী”

0
18

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই
কাপ্তাইয়ের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে অত্যন্ত দুর্গম জনপদেও ভুমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য পৌঁছে গেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার “নতুন বাড়ি”।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার মনোরম কাপ্তাই উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের দুর্গম এলাকা পেরিয়ে এই উপহার পৌঁছে দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তার টিম। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান বলেন, বছরের মার্চ মাস হতে মে’ মাস পর্যন্ত সময় গুলোতে এঅঞ্চলে থাকে তীব্র পানির সংকট। ৩-৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পাহাড়ি ঝিরি-ঝর্ণা থেকে পানি সংগ্রহ করে সেখানে চলতি বছরের ওই সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হয়েছে। একেকটা এলাকায় নির্মাণ সামগ্রী পৌছাতেই যেখানে ২-৩ মাস সময় লাগে, সেখানে আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের ঘরগুলো। দূর থেকে পাহাড়ের সবুজের মাঝে লাল টিনের ঘরগুলো দেখে মনে হয় একখন্ড পতাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে তার টিম নিয়ে দিনরাত ছুটে চলতে হয়েছে এই ঘরগুলোর পিছনে। সর্ব্বোচ্চ গুনগত মান বজায় রেখে নির্মিত হয়েছে এই ঘরগুলো। পাহাড়ি বাঙ্গালীর অপূর্ব মেলবন্ধনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে এখানে।
তিনি আরো বলেন,পাহাড়ের দুর্গম এলাকা হলেও তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং মমতা নিয়েই কাজগুলো করেছে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের অগ্রাধিকার প্রকল্প আর ইউএনওদের হাজারো কাজের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে করা কাজ। তিনি বলেন,এ মহৎ কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছেন।
কাপ্তাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, উপজেলায় ১ম পর্যায়ে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা টাকা ব্যয়ে ৬৮ টি এবং ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২য় পর্যায়ে নির্মিত হয়েছে ৫ টি ঘর। মোট ৭৩ টি ঘরের মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি এবং গত ২০ জুন ২০২১ এই দুইধাপে ৬৫ টি ঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে উপকার ভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৮ টি ঘরের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
উপজেলা চিৎমরম ইউনিয়নের উজানছড়ি পাড়ায় সমতল হতে প্রায় ৩শ’ ফুট উপরে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় স্বামী হারা অসহায় প্রুসিংমা মারমাকে। তিনি জানান, তার মাথা গোঁজার একমাত্র ঘরটি ছিল একেবারেই জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই পানি পড়তো ঘরে। ঝড় তুফান হলে অজানা আতঙ্কে থাকত তারা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘর তাকে এবং তার ছেলে মেয়েদেরকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন করে দেখিয়েছে।
চিৎমরম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইসাঅং মারমা বলেন, এই ইউনিয়নে সর্বোমোট ২২ টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে দূর্গম চাকুয়া পাড়ায় ৫ টি। যেখানে মালামাল বহন করে নেওয়া অত্যন্ত দূরুহ। প্রশাসনের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই ঘর নির্মান সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চিৎমরমের ফুইট্টাছড়ি, উজানছড়ি, চিৎমরম বড় পাড়া, মুসলিম পাড়ায় অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠী লোকজন এসব ঘর পেয়েছে।