অপরিকল্পিত নগরায়নে হুমকির মুখে ১৩৭ প্রজাতির উদ্ভিদ

0
13

পাহাড় নিধন, পাহাড়ে অপরিকল্পিত বসবাস ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম শহরের ১৩৭ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের এক দল গবেষক।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপেনিয়ন- ‘ইকো’ পরিচালিত গবেষণা ফলাফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষক দলের প্রধান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক রাসেল বলেন, পাহাড় নিধন, পাহাড়ে অপরিকল্পিত বসবাস ও স্থাপনা নির্মাণ যদি বন্ধ করা না হয় তাহলে গবেষণায় শনাক্তকৃত ৩৬৬ প্রজাতির ওষধি উদ্ভিদসহ ৪৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদের অনেকগুলোই হারিয়ে যাবে যা চট্টগ্রাম শহরের পরিবেশ বিনষ্ট করবে।

এসব উদ্ভিদ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ফারুক বলেন, এ উদ্ভিদগুলো রক্ষায় সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বিদেশি উদ্ভিদের পরিবর্তে দেশীয় ফলজ-বনজ ও ওষধি উদ্ভিদ ব্যাপকহারে রোপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এছাড়া সড়ক-মহাসড়কের বিভাজকে তিনস্তরে ওষধি, দেশীয়, ফলজ গাছ রোপনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

চট্টগ্রাম শহরে কতগুলো উদ্ভিদ রয়েছে, এদের মধ্যে কতগুলো ঔষধি উদ্ভিদ এবং কতগুলো বিপন্ন প্রজাতি বিলুপ্ত প্রায় তা নির্ণয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপেইনিয়ন (ইকো) অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

এতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম শহরে ২০টি এলাকায় মোট ৪৯৫  প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৭ প্রজাতির বড় বৃক্ষ, ৮৬ প্রজাতির গুল্ম জাতীয়, ১৭৯ প্রজাতির বীরুৎ জাতীয়, ৫৩ প্রজাতির লতা জাতীয় উদ্ভিদ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৪১ প্রজাতির বিদেশী এবং ৩৫৪ প্রজাতির দেশীয় উদ্ভিদ রয়েছে। এছাড়া ৩৬৬ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেছে, যেগুলো ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।  বিপন্ন প্রায় ১৩টি প্রজাতি এবং বিলুপ্ত প্রায় এমন প্রজাতি পাওয়া গেছে প্রায় ১৩৭টির অধিক। এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা হয়নি এমন প্রজাতির সংখ্যাও ৩০ এর অধিক।

গবেষণায় দেখা যায়, নগরের ২০টি এলাকার মধ্যে চট্টগ্রামে আলোচিত সিআরবি এলাকায় ২২৩ প্র্র্র্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। যেখানে ৮৮ প্রজাতি বড় বৃক্ষ, ৪১ প্রজাতি গুল্ম জাতীয়, ১৮৩ প্রজাতি ঔষধি উদ্ভিদ এবং ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে এমন ৬৬ উদ্ভিদ এলাকায় রয়েছে। এছাড়া আরও অন্যান্য ১০৫ প্রজাতির উদ্ভিদ সিআরবি এলাকায় রয়েছে বলে গবেষকরা জানান।

ইকো’র সভাপতি মো. সরওয়ার আলম চৌধুরি মনি, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য শাহেদ মুরাদ সাকু ও এস এম আবু ইউসুফ সোহেলের সহযোগিতায় এই বছরের মার্চে শুরু হওয়া গবেষণাকর্মটির নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল। সহযোগী হিসেবে চবি উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো. খন্দকার রাজিউর রহমান, ইমাম হোসেন, সজীব রুদ্র, মো. আরিফ হোসাইন, সনাতন চন্দ্র বর্মন, মো. মোস্তাকিম, মো. ইকরামুল হাসান।