পর্যটন বিকাশে মন্ত্রী,সচিব,চেয়ারম্যান পরিদর্শনে যাচ্ছে কুতুবদিয়া দ্বীপ

0
5

এস,কে,লিটন কুতুবী

শনিবার সকালে কুতুবদিয়া দ্বীপের বাংলাদেশ সরকারের বে সামরিক পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী এমপি, সচিব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ হান্নান মিয়া যাচ্ছেন। কক্সবাজার জেলা আ’লীগের সভাপতি বর্তমান কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর অনুরোধক্রমে পর্যটন বিকাশ ও আয় বর্ধক খাত বিকশিত করার জন্য সরকার কুতুবদিয়া দ্বীপকে ঘিরে মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়। তারই ধারাবাহিকতায় পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বড় একটা টিম কুতুবদিয়ায় পা রাখতে যাচ্ছেন।
স্থল আর নৌ দুই পথে পাড়ি দিয়ে ভ্রমন প্রিয়সীরা আনন্দ উপভোগ করতে ছুটে আসছে বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়ায়। এ দ্বীপের পশ্চিম উপকুল ঘেষে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ বালি আঁড়িযুক্ত প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শোভায়িত সৌন্দর্য্য মন্ডিত সমূদ্র সৈকত। জীববৈচিত্র্যপুর্ণ সাগর ঘেরা এ দ্বীপে বিচরণ করলে দেখা যায় নানা প্রজাতির পাখি, মাছ,কচ্ছপ,শামুক,ঝিনুক, মাছ ধরার নৌকার সারি। আর ঐতিহাসিক বিখ্যাত বাতিঘর, প্রাচীন স্থাপত্য কালারমার মসজিদ, লবণ শিল্প, মৎস্য ভান্ডার, সম্ভাবনাময়ী সর্ব বৃহৎ ভুগর্বস্থ গ্যাস ক্ষেত্র বাংলাদেশের সর্ব প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ পাইলট এর প্রকল্প ও দৃষ্টিনন্দন সারিসারি ঝাউবীথি। সরকারী এবং বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নিলেই হতে পারে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র কুতুবদিয়া দ্বীপটি । দ্বীপের মধ্যেখানে অবস্থিত কুতুব আউলিয়ার সুযোগ্য উত্তরসুরি হযরত শাহ আবদুল মালেক আল কুতুবী (রাঃ) এর মাজার শরীফ।

দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য পর্যটক ও হযরত শাহ আবদুল মালেক আল কুতুবী (রাঃ) এর মাজার শরীফ অনুসারি ভক্তদের আগমন ঘঠে। লেমশীখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তে কুতুবদিয়া দ্বীপের পূর্ব পাশে বাংলাদেশ কুটির শিল্প (বিসিক) এর ঐতিহাসিক বিশাল লবণ উৎপাদন ও প্রদর্শনী খামার রয়েছে। শুস্ক মৌসুমে প্রদর্শনী বিসিক প্রকল্পে সুচারুভাবে সাদা লবণ উৎপাদনের দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন দেশী—বিদেশী পর্যটক, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও কবি লেখক সাহিত্যিক লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া স্ব চোখে মনমুগ্ধ পরিবেশ দেখে যাওয়ার পর তাদেরকে বার বার দেখতে আসার হাতছানি দেয়। কর্মব্যস্থতার এক ফাঁকে বুকের পাথর চাপা কষ্ট গুলো ভুলে স্বীয় মন মানসিকতাকে সতেজ করতে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের রানী কুতুবদিয়ায় ভ্রমণে আসলে নিঃসন্দেহে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় এমন উক্তি করেছেন অনেক রতি মহরতি জ্ঞানী ব্যক্তিগণ।

ত্রিভূবন ট্রাভেলের সদস্য চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় আইন বিভাগের এক দল (পর্যটক) শিক্ষার্থী টুরিষ্ট ক্যাম্প (তাবু) স্থাপন করে দৃষ্টি আর্কষণ করে গেছেন কুতুবদিয়া দ্বীপের বিনোদনমুখী মানুষের মন। রাজশাহী থেকে ভ্রমণে আসা পাবনা এডওয়ার্ড় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী মোস্তাফা হিরু বলেন, লোকমুখে শুনা যায় চর এলাকা ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষ পাষন্ড প্রকৃতির কিন্তু কুতুবদিয়ার বেলায় তা বুঝা যায়নি। এখানকার মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, স্বভাব দেখে সত্যি আমি অবাক হয়েছি। এ দ্বীপে চলাফেরার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা ও আবাসনের জন্য জেলা পরিষদের একটি অত্যাধুনিক ডাকবাংলো এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলের মধ্যে তারকা মানের হোটেল সুমুদ্র বিলাস, হোটেল আলমাস, হোটেল সাগরিকা অন্যতম।

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে এসে চট্টগ্রাম বহদ্দার হাট,নতুন ব্রীজ এস, আলম সার্ভিস ও সানলাইন কিংবা সিএনজি টেক্সি গাড়িযোগে সোজা পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটে এসে কুতুবদিয়া চ্যানেল পার হয়ে স্পীড বোটে ৭—৮ মিনিট এবং ডেনিশ বোটে ২০—২৫ মিনিটে কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ স্টীমারঘাট, দরবার ঘাট আসা যায়। সহজেই কুতুবদিয়া দ্বীপে এসে জীপ,টেক্সি, ইজিবাইক,মোটরসাইকেল যোগে দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করা যায়। এ ব্যাপারে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে কুতুবদিয়া দ্বীপের পশ্চিমে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমূদ্র সৈকতকে দৃষ্টি নন্দন করার মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে বন বিভাগ চরের সৌন্দর্য়ের জন্য ঝাউবাগান করেছে।

কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকতে বেসকারিভাবে হোটেল সমুদ্র বিলাস মালিক কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের বসার জন্য ইজি চেয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে্যর দিক দিয়ে কুতুবদিয়ায় কোন অংশেই সেন্টমার্টিনের চেয়ে কম সৌন্দর্য নয়। যেহেতু সেন্টমার্টিন একটি মাত্র ইউনিয়ন। বিখ্যাত পর্যটন হনলুলু, ওয়াইকিকি, সিসিলি এ রকম বিছিন্ন সাগর বেষ্টিত পর্যটন কেন্দ্র আজ পৃথিবীখ্যাত। কিন্তু আশ্চর্যে্যর বিষয় কুতুবদিয়ার মত একটি দারুণ সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। পর্যটন মন্ত্রণায়ের উদ্যোগে কুতুবদিয়াকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনার প্রয়োজনে জরীপ কার্য সম্ভাব্যতা যাচাই করার দাবী জানানো হয়।

এতে কুতুবদিয়া দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটনখাতকে আরো প্রসারিত করে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে তোলে ধরার পাশাপাশি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ঘুরতে আসা পর্যটক জামসেদ জানান। ইতোমধ্যে দেশের গুরুত্বস্থানে কুতুবদিয়ায় পর্যটনের গুরুত্ব উল্লেখ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন কুতুবদিয়া পরিদর্শনে আসেন। কুতুবদিয়া দ্বীপে সহজে আসার জন্য বাশঁখালীর ছনুয়া ঘাট হয়ে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আকবরবলী ঘাট ও ধুরুং ঘাট উন্নত মানের জেটি দিয়ে উঠানামা করা যায়। আবার পেকুয়া উপজেলার মগনামা জেটি দিয়ে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ স্টীমার ঘাট জেটি, দরবারঘাট জেটি ও আলী আকবর ডেইল জেটিসহ অত্যাধুনিক ৫টি জেটি দিয়ে যাত্রী ও পর্যটকরা আসা যাওয়া করে থাকে।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী বলেন, কুতুবদিয়ায় পর্যটকদের থাক,খাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্