এবারের অন্যতম আকর্ষণ কাতান-বেনারসি

0
54

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ, মুন্সিরহাট, চিলারংসহ আশপাশের ৭টি গ্রামের বেনারসি পল্লীর সাত কাতান-বেনারসি 1শতাধিক নারী এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিন-রাত সুচের ফোঁড়ায় সময় কাটছে তাদের। এসব বেনারসি পল্লীতে আনারকলি ও ফুলকলি শাড়ি ছাড়াও নেট কাতান, পিওর কাতান প্রভৃতি নামের বাহারি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী বেনারসি-কাতান শাড়িতে এবারের অন্যতম আকর্ষণ জাবেদ কাতান-বেনারসি। এখানে তৈরি শাড়ি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের শাড়ি পল্লীর নারীরা শাড়িতে জরি ও পুঁতি বসানোর কাজ করে সংসারের অভাব ঘোচানোর পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সাংসারিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে এই কাজ করছেন তারা। আবার স্বামীহারা অনেক নারী থেমে যাওয়া সংসারের চাকা ঘোরাতে তারাও নেমে পড়েছেন এ কাজে। এতে অনেকের সংসারেই স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে। আর তাদের দেখে প্রতিদিনই বাড়ছে এ ধরনের কর্মীর সংখ্যা। শিবগঞ্জ এলাকার সুফি বেগমের (২৮) স্বামী আবু সাঈদ ৬ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর দুই মেয়ে, এক ছেলেকে নিয়ে পড়েন বিপাকে। অভাবী সংসারে দুবেলা দুই মুঠো অন্ন জোগাড় করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পাশের প্রতিবেশীর এ ধরনের কাজ দেখে উত্সাহিত হন সুফি বেগম। মাত্র ৫ দিনে একটি শাড়ির কাজ শেষ করে ৫০০ টাকা আয় করেন।

ওই গ্রামের অধিবাসী চম্পা বেগম ও সাদিকা খাতুন। একজন মাদারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম ও অন্যজন ৯ম শ্রেণীতে পড়ে। সংসারে অভাব থাকায় লেখাপড়া প্রায় সময় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ অবস্থায় যোগ দিয়েছে এ কাজে। তাদের মতো অনেক স্কুল ও কলেজের ছাত্রীরা এ কুটির শিল্পে কাজ করে লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছে।

শিবগঞ্জের মামুনী বেগম বলেন, ‘তার কাছ থেকে ৪শ’ নারী প্রতিদিন শাড়ি ও পুঁতি নিয়ে এ কাজ করছেন। ৭ দিনের মধ্যে কাজ শেষে শাড়ি জমা দিয়ে পরিশ্রমিক নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে একজন নারী একটি শাড়ি নকশার কাজ শেষ করতে পারে। এতে মজুরি পায় ৫০০-৭০০ টাকা। আর রোজার ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত এখন নারীরা। যেন দম নেয়ার সময় নেই। তাদের নকশা করা এসব শাড়ি প্রতি সপ্তাহেই চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিপণি বিতানে।’