বাড়ি আমাদের চট্টগ্রাম মেঘের কোলে ”পাসিং পাড়া ‘’ দেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম

মেঘের কোলে ”পাসিং পাড়া ‘’ দেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম

0
650

:: শরীফুল ইসলাম রুকন ::

আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই।//ওই পাহাড়ের ঝর্না আমি, ঘরে নাহি রই গো//উধাও হ’য়ে বই।।//চিতা বাঘ মিতা আমার গোখ্‌রো খেলার সাথি//সাপের ঝাঁপি বুকে ধ’রে সুখে কাটাই রাতি//ঘূর্ণি হাওয়ার উড়্‌নি ধ’রে নাচি তাথৈ থৈ গো ‘আমি’//নাচি তাথৈ থৈ।।

দেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রামকে নিয়ে আজকের সংক্ষিপ্ত লেখাটি নিজচিটগাং২৪ এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি। হাতে সময় হলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন পাসিং পাড়া।passing para newsctgদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কেওক্রাডং এর খুব কাছের জনবসতি পাসিং পাড়া দেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম। কেওক্রাডং এর প্রায় ৩০৬৫ ফুট উচ্চতায় এই পাসিং পাড়ার অবস্থান।

বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে কেওক্রাডং পাহাড় অবিস্থত। যাত্রা পথ অত্যান্ত দূর্গম ও কষ্ঠসাধ্য বলে অনেকে বান্দরবান পর্যন্ত এসে ফিরে যান। দুর্গম এ পাহাড়ি এলাকার দৃশ্য খুবই মনোরম। বাংলাদেশের অন্য কোন পাহাড়েও এত উঁচুতে কোন জনবসতি নেই।

অপরূপ প্রকৃতি, পুরো পাসিং পাড়া ঢেকে থাকে মেঘে। প্রায় সারা বছরই মেঘের ভেতরেই থাকে এই পাসিং পাড়ার লোকজন। আশপাশের সমস্ত চরাচর যেন একটা মেঘের সমুদ্র।

পাসিং পাড়া একটা বম পাড়া। পাড়াটা অন্যান্য বম পাড়ার মতোই সুন্দর। বেশী উচ্চতায় তাদের বসবাস হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এ পাড়ার মানুষ এত উপরে পানি পায় না। পানির জন্য প্রতিদিন তাদের নামতে হয় অন্তত দুই হাজার ফুট নিচে ঝিরিতে। এদের জীবনযাত্রার এসব কথা অনেকের অজানা।

পাসিং পাড়া যার নাম অনুসারে হয়েছে সেই পাসিং বম এর সাথে লেখক।
পাসিং পাড়া যার নাম অনুসারে হয়েছে সেই পাসিং বম এর সাথে লেখক।
এ পাড়াটি বেশী উচ্চতায় হওয়ায় বাতাসের তান্ডব থেকে বাঁচার জন্য টিনের চালগুলো আটকে রাখতে উপরে বাঁশ আড়াআড়ি করে দিয়ে বাঁধা হয়েছে। পাড়ার ঠিক মাঝ বরাবর একটা রাস্তা চলে গেছে, দুপাশে ঘর। মনে হবে যেন এটা একটা বাজার!

বমরা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনুসারী। পাসিং পাড়ার চার্চটা খানিকটা উঁচু পাহাড়ের উপরে। প্রতি রোববার এখানে ধর্রমীয় সমাবেশ ও প্রতি সন্ধ্যায় প্রার্রথনা হয়।

পাসিং পাড়া থেকে দূরে, বহুদূরে যেসব পাহাড় শ্রেণী দেখা যায়, সেগুলো দেখতে যে কী অপূর্ব লাগে। যাঁরা দেখেননি তাঁরা বুঝতেই পারবেন না!